মুহাম্মদ
বিন তুঘলক উত্থান ও পতন
মূলঃ
আঘা মাহদি হুসাইন
অনুবাদঃ
আল মারুফ রাসেল
প্রকাশকঃ দিব্য
প্রকাশ
প্রকাশকালঃ 2021
খ্রিঃ
আগ্রা কলেজের ডক্টর আগা
মাহদি হুসাইনের "রাইজ অ্যান্ড ফল অফ মুহাম্মাদ
বিন তুঘলক'' অনুবাদক আল মারুফ রাসেলের ভূমিকা সূত্রে মুহাম্মাদ বিন তুঘলকের প্রতি
আঘা মাহাদি হূসাইনের সহানুভূতির কথা জানতে পারি। তারপরও তুঘলকের বিরুদ্ধে আনীত
অভিযোগগুলোর খন্ডনে (যেমন- সাম্রাজ্যে উপর্যুপরি বিদ্রোহ-এক্ষেত্রে মুহাম্মাদ
তুঘলককে কিছুটা দূর্ভাগা বলা যায়, তার সময়ে ২০ টার উপর বিদ্রোহ হয়েছিল, যেখানে
মুসলিম আলেম, মাশায়েখ, সূফী, মালিকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলো, রাজধানী স্থানান্তর,
খোরাসান আক্রমণ পরিকল্পনা, কারচিল অভিযান, প্রতীকি মুদ্রা ব্যবস্থা, পিতৃহত্যা,
দোয়াব এলাকায় কর বৃদ্ধি, নাস্তিকতা, মৌলবাদ ইত্যাদি ) চরিত্র বিশ্লেষণে লেখক যে
পরিমাণ গবেষণা ও পরিশ্রম করেছেন তা শ্রদ্ধা জাগায়।
সম সমায়িকদের লেখায়
মুহাম্মাদ তুঘলকের যে চরিত্র তা যে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত (যেমন-
ইসামী, ইবনে বতুতা, বারনী) তার তূলনামূলক আলোচনা ও পাশাপাশি সম সাময়িক অন্য উৎস
গুলো যাচাই করে খন্ডন করেছেন।
মাহাদি হাসানের তুঘলক
জ্ঞানী, সংশয়ী, যুগের চাইতে অগ্রগামী, নিরীক্ষামূলক শাসন সংক্রান্ত ব্যবস্থার
প্রবর্তনকারী। যেগুলোই তার সম সাময়িক ও পরবর্তী ইতিহাসকারদের তার বিরুদ্ধে নানারকম
অভিযোগ তুলতে সুযোগ করে দিয়েছিলো। হাসান তার বইতে এসব অভিযোগের ভিত্তিহীনতা যাচাই
করে তুঘলকের এক প্রশংসনীয় বিস্ময়কর চরিত্র আমাদের সামনে তুলে আনেন।
মাহাদি হাসানের বইটার
চমৎকার, সাবলীল অনুবাদ করেছেন আল মারূফ রাসেল। ইতিহাসের প্রতি ভালোবাসা থেকেই যে তিনি
এ কষ্টসাধ্য কাজটি করেছেন তা তার লেখা পড়লেই বুঝা যায়। আমি বইটা শেষ করেছি একটানা
পড়ে দুই দিনের ব্যবধানে, যা সম্ভব হয়েছে বইটার সুখপাঠ্য অনুবাদ গুনেই। বইটার
প্রচ্ছদ, কাগজ, ছাপানো ভালো লাগার মতো। এ জন্য দিব্য প্রকাশ ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।
অনুবাদকের জন্য শুভ কামানা
ও ভালোবাসা। এরকম একটি পরিশ্রম সাধ্য কাজের জন্য। আমাদের মতো সাধরন পাঠকদের জন্য এ
অনুবাদ এক বিরাট প্রাপ্তি। ইতিহাসে আগ্রহী পাঠক মাত্রই বইটা অবশ্য পাঠ্য৷ কারন,
দিল্লি সালতানাতের ইতিহাস বাংলা তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদের ইতিহাসের সাথেই
সংযুক্ত।
Comments
Post a Comment